পরিবেশ দূষণ কী ? বর্তমানে পরিবেশ দূষণের ৫টি কারণ

পরিবেশ দূষণ কী ? বর্তমানে পরিবেশ দূষণের ৫টি কারণ

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়তই চলেছে পরিবেশ দূষণ এবং দিন দিন এটি বেড়েই চলেছে। 

পরিবেশ দূষণের কারণ গুলো নিয়ে আজকের প্রতিবেদনে আলোচনা করা হবে। 

পরিবেশ দূষণ কী ? বর্তমানে পরিবেশ দূষণের ৫টি কারণ


পরিবেশ দূষণ কাকে বলে?

মূলত পরিবেশের জন্য যে সমস্ত জিনিসগুলো ক্ষতিকর তাকে পরিবেশ দূষণ বলা হয়ে থাকে। 

নিচের কারণগুলোর জন্য আমাদের চারপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আসলে আমরা অনেকাংশ নিজেরাই দায়ি এই পরিবেশ দূষণ করার জন্য। 

আজকে আমি এমনই ৫টি কারণ উল্লেখ করার চেষ্টা করবো। এই কারণগুলো যদি আমরা সমাধান করে ফেলতে পারি তাহলেই আমরা খুব অল্প দিনেই পরিবেশ দূষণ রোধ করতে সক্ষম হবো। 

১. সেখানে সেখানে ময়লা-আর্বজনা ফেলা

রাস্তার মধ্যে যেখানে সেখানে ময়লা আর্বজনা ফেললে পরিবেশ দূষিত হয়। শহরের জনসংখ্যা বেশি এবং রাস্তাও অনেক নোংরা বিধায় যেখানে সেখানেই ময়লা ফেলা হয়। 

আমরা বরাবরই এই কাজটা করে থাকি সবাই। যেখানে সেখানে, যত্র ময়লা আর্বজনা যেখানে সেখানেই ফেলে রাখি। 

এতে করে পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ময়লার একটা গন্ধ থাকে যা পরিবেশের বাতাসকে নষ্ট করে ফেলে। 

আমাদেরকে অবশ্যই এ থেকে সচেতন হতে হবে। শহর হোক আর গ্রাম হোক নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে হবে। 

২. কোন কিছু পোড়ানোর বন্ধ করা 

পোড়ানের আগুনে পরিবেশ নষ্ট বেশি। আর কোন কিছু পোড়ানোর জন্য অবশ্যই আমাদেরকে সেভাবে ব্যবস্থা করে নিয়ে পোড়াতে হবে। 

অনেক সময় আমরা শহরের ময়লাগুলোকে একসাথে করে পুড়িয়ে ফেলি অথচ সেটার ধোয়া কোথায় যায় খেয়াল করি না। 

কোন ক্যামিক্যাল এর বোতল থাকলে সেটা যদি পোড়ানো হয় তাহলে সেটার গ্যাসগুলো কিন্তু আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। 

এখন থেকে আমরা এই বিষয়টা লক্ষ্য রাখবো যে, কোন কিছু পোড়ানোর আগে দেখবো কি পোড়ানো হচ্ছে। 

আর সেই পোড়ানোর ধোয়া আমাদের জন্য ক্ষতিকর কিনা। যদি ক্ষতিকর হয় তাহলে অবশ্যই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে। 

অনেক সময় ময়লা-আর্বজনা মাটিতে পুতে রাখলে কিছুদিন পর সেগুলো সার হয়ে যায়। এভাবেও আমরা ময়লা-আর্বজনা নষ্ট করে ফেলতে পারি।

৩. গাছপালা কেটে না ফেলা 

গাছপালা আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে। আর জনসংখ্যার জন্য গাছপালা কেটে ফেলা অনেক বেশি ক্ষতিকর আমাদের পরিবেশের জন্য। 

গাছপালা আমাদের জন্য বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। অক্সিজেন আমাদের বেচে থাকার জন্য অনেক প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। 

আমাদের অবশ্যই বাড়তি জনসংখ্যার বসবাসের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। 

গাছপালা কেটে কখনই বসতবাড়ি তৈরি করা উচিত নয়। এখন অল্প জায়গাতে বসবাস করার অনেক ভালো পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। 

আমরা ইচ্ছা করলেই সেগুলো ব্যবহার করে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য ব্যবস্থা করে ফেলতে পারি। 

৪. দুর্গন্ধযুক্ত জিনিস নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা 

শহরে অনেক সময় আমরা ময়লা আর্বজনার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থেকে থাকলেও সকল স্থানে দেখা যায় না। 

এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, আমরা ময়লার জায়গায় ময়লা ফেলবো। আসলে আমাদের প্রতিদিনের বাসা বাড়ির ময়লাগুলো ফেলার জন্য অবশ্যই নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারিত করে নিতে হবে। 

নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেললে অনেক সময় পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এই বিষয়টা আমাদেরকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। 

৫. ক্ষতিকর গ্যাস ও ধূলিকণা না মেশানো বাতাসে 

আমরা অনেক সময় কাগজ বা বিভিন্ন জিনিস নিজেরাই আগুন জ্বালিয়ে পুড়ারনোর কাজ করি যার ফলে বাতাস দূষিত হয়। 

গাড়ির কালো ধূয়ার কারনেও আমাদের ফ্রেশ বাতাস দূষিত হয় অনেক বেশি পরিমাণে। 

এই সমস্ত দূষণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই এসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। 

উপরোক্ত ৫টি কারণ ছাড়াও আরও অনেক কারণ আছে পরিবেশ দূষিত করার জন্য। 

আপাতত এই কয়টি কারণ থেকে আমরা নিজেকে মুক্ত থাকি আর আমাদরে আশেপাশের পরিবেশকে মুক্ত রাখি। 
আমাদের দেশের শহরের কথা যদি আমরা বলি তাহলে বলবো গ্যাসের লাইন নষ্ট হয়ে থাকে। গ্যাসের পাইপ লিক করে থাকে। 

এসব লাইন দিয়ে নিয়মিত গ্যাস বের হতে থাকে। বেশ কিছু দূর্ঘটনা ঘটলেও আমরা সচেতন হই নাই এখনও। 

বেশ কয়েকবার শহরে বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের বিষ্ফরণ ঘটলেও আমরা সচেতন কম এখনও। 

উপরের ৫টি বিষয়ে যদি আমরা নিজেরাই সচেতন হই তাহলে আমাদের আগামীর পথটা অনেকটাই সুগম হবে ইনশাআল্লাহ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *