বর্তমানে ফেইসবুক ব্যবহারের ৫টি অপকারীতা জেনে রাখুন

বর্তমানে ফেইসবুক ব্যবহারের ৫টি অপকারীতা জেনে রাখুন

ফেইসবুকের মাধ্যমে বর্তমানে অনলাইনে ঘরে বসে বসেও আয় করে করে। যদি ইন্টারের স্টুডেন্ট হয় তাহলে তারা হয়তো নিরাপায় হয়ে 

এসাইমেন্ট হোক না হোক। আসলে একটা বিষয় নিয়ে কথা না চলে অত্যন্ত শীর্ষ থেকৈ সকলের ঠিক করে নেওয়া উচিত বা জানানো উচিত ছিল। 

বর্তমানে ফেইসবুক ব্যবহারের ৫টি অপকারীতা জেনে রাখুন


আমি নিচে ৫টি অপকারিতা বলা চেস্টা করবো। যেগুলো জেনে আপনি মেনে চলতে পারলে হয়তো ফেইসবুকের অপকারিতা থেকে বেচে থাকতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। যেমন, 

১. সময় অপচয় করা হয় বেশি

২. হতাশা চলে আসে 

৩. মিথ্যা তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে আতংক বাড়ে

৪. বন্ধু হয়ে উঠে পরশ্রীকাতর

৫. একাকিত্ব বেড়ে যায় 

উপরের ৫টি বিষয় ছাড়াও আরও অনেক অপকারীতা রয়েছে। আসলে আমরা অনেক সময় শুধু উপকারিতা পড়তে পড়তে অপকারীতাগুলো এতটা গুরুত্ব দেই না। 

আমি উপরোক্ত ৫টি বিষয়ের বর্ণনা নিচে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো বোঝার জন্য। আশা করি বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারবেন। 

১. সময় অপচয় করা হয় বেশি

আমাদের সময় মোট ২৪ ঘন্টা। মানে আমরা কোন কিছু করেও একদিনের এই ২৪ ঘন্টাকে বাড়াতে পারবো না। আগেও এমনটাই ছিল। তবে বর্তমানের সময়গুলোকে বলা হচ্ছে অনেক দ্রুত যাচ্ছে। 

এর অন্যতম একটা কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এই প্রযুক্তির বিষয়টাকে। আমরা আসলে এই বিষয়টা সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন নই। আর এই সচেতনতা না আসার জন্য আমাদের নিজেদেরকেই দোষ দিতে হবে। 

প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা অনেক তথ্যই আগের থেকে অনেক দ্রুত পাই। আর এসব তথ্যগুলো আমরা যখন কোন কাজে লাগাতে না পারি তখন সেটা আসলেও তথ্যই থেকে যায়। 

সময়ে সঠিক ব্যবহার বা সময়ের জ্ঞান হিসেবে অনেক কনটেন্ট বা আর্টিকেল আমরা নিজেরাই লিখেছি বা পড়েছি। কিন্তু আমরা তারপরেও সচেতন হই না। প্রত্যেকটা সময় অনেক দামী। 

প্রত্যেকটা সময়কে দামী হিসেবে দেখে সেই সময়কে অবশ্যই আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। সময়ের মূল্যায়ন না করতে পারলে আমাদেরকে অবশ্যই এর মূল্য দিতে হবে অনেক বেশি পরিমাণে। 


২. হতাশা চলে আসে 

এটা একটা কমন বিষয় বর্তমান সময়ের জন্য। অনেক সময় আমাদের এই বিষয়টা বোঝার জন্য অনেক বেশি বই পড়াশোনার প্রয়োজন হতো আগের সময়ে। কিন্তু বর্তমানে এইটা বোঝার জন্য এতটা বেশি কষ্ট করতে হয় না। 

সামান্য একটু এদিক সেদিক নজর করলেই বুঝতে পারা যায়। ইদানিং কালের নিউজ পেপার গুলো যদি আপনি লক্ষ্য করেন তাহলে বুঝতে পারবেন যে, হতাশা কিভাবে আসে আর কিভাবে ক্ষতি করে। 

প্রতিদিন গড়ে বেশ কয়েকশত মানুষ আত্মহত্যা করে এই কারণে। আত্মর্জাতিক গবেষণায় দেখা যায় প্রতি সেকেন্ডে কয়েকশত মানুষ আত্মহত্যা করে শুধুমাত্র হতাশা নামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে। 

হতাশ হওয়া বা হতাশা এমনই একটা রোগ যেই রোগের কোন চিকিৎসা এখন পর্যন্ত বের হয় নাই। আর আগামীতেও যে বের হবে বিষয়টা এমন নয়। 

আমরা সবচেয়ে বেশি যেই বিষয়ে সচেতন থাকবো হতাশ না হওয়ার জন্য সেটা হলো আমাদেরকে সব সময় চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে। কারণ হতাশা আসলে মূলত চিন্তা বেশি করলেই আসে। 


৩. মিথ্যা তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে আতংক বাড়ে

অনলাইনে ইদানিং সবচেয়ে বেশি যেই ভয়টা কাজ করে সেটা হলো ভাইরাল নিউজ। এটা আসলেও অনেক মারাত্মক ক্ষতিকর একটা বিষয়। 

অনেক নিউজকে অনেক বেশি মূল্যায়ন করার পেছনে সবচেয়ে বেশি যেই বিষয়টা কাজ করে সেটাই হলো ভাইরাল নিউজ। 

আসলে আমরা অনেকেই এখনও জানি না অনলাইন জগতে মূলত কি চলে। এখানে কোন ক্যাটাগোরিতে কাজ করা হয়। এখনও আমাদের কাজে এসকল তথ্য অজানাই রয়ে গেছে। 

কিছুদিন আগের ঘটনা হবে হয়তো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে যে, করোনা কোন ভাইরাস নয় এটি একটা ব্যকটেরিয়া। প্রকাশ করেছে ভালো একটা পেজ বা গ্রুপ যেখানে রেফারেন্স হিসেবে সিংগাপুরের দেওয়া হযেছে। 

বলা হয়েছে সিংগাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের একদল গবেষক বের করেছেন যে, এইটা আসলে কোন ভাইরাস জনিত রোগ নয় এইটা ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। 

এবং ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হওয়ার যেসব চিকিৎসা সেগুলো দিলেই এটা কমে যায় বা ভালো হয়ে যায়। আসলে এই ধরনের সময়ে এই নিউজগুলো অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়ে। 

কথায় বলে, মিথ্যা বাতাসের আগে আগে ছড়িয়ে যায়। আসলেও তাই। আমরা যখন কোন সত্য দেখতে পাই তখন সেটা এতটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে না কিন্তু কোন মিথ্যা দেখি অনেক দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। 


৪. বন্ধু হয়ে উঠে পরশ্রীকাতর

অনেক সময় বন্ধ থাকার পরেও একা একা অনুভূত হয় এই কারণে। আমাদের ফ্রেন্ডলিস্টে হয়তো ৫ হাজার বন্ধ আছে। 

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলে একজনকেও পাওয়া যায় না। এ বিষয়টা আসলে সত্যিই অবাক করার মতই। সুসময়ের বন্ধু আর অসময়ের বন্ধু অনেকটাই পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। 

আমাদের সময় যখন ভালো কাটে তখন আমাদের ফ্রেন্ডলিস্টে বা ফ্রেন্ডলিস্টের বাইরে বন্ধুর কোন অভাব থাকে না। অথচ যখন কোন খারাপ সময় আসে তখনই আমাদের বন্ধুর সংকট দেখা যায়। 

ভালো সময়ের জন্য ভালো মানুষ প্রয়োজন তেমনি ভালো বন্ধু প্রয়োজন। আর অনলাইন বা ভারচুয়্যাল জগতে ভালো বন্ধু পাওয়া অনেকটাই কঠিন বিষয়। 

আমরা সারধানত নিজেদের কাজগুলোকে অন্যদের মাধ্যমে করানোকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি অনেক সময়। আর এই কারণে অনেক সময় দেখা যায় যে, আমরা নিজেরাও অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়ি। 

বন্ধু যদি শত্রু হয় তখন বিষয়টা অনেকটাই জটিল হয়ে যায় আমাদের জন্য। আশা করবো বিষয়টা সবার বুঝে আসবে এবং বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন হবেন। 

৫. একাকিত্ব বেড়ে যায় 

অনেক সময় আমরা ফিজিক্যাল কোন কাজ না থাকলে ফেইসবুক ব্যবহার করে থাকি। অনেক সময় আবার দেখা যায় ফিজিক্যাল কোন কাজ থাকলেও সেটা বাদ দিয়েই ফেসবুক ব্যবহার করি। 

এতে করে কোন কাজের প্রতি আগ্রহ বা সময় থাকে না। আর থাকলেও সেটা নষ্ট হয়ে যায়। আমরা তখন একাকিত্ব অনুভব করি। 

অনলাইন বা ভারচুয়্যাল জগতের প্রতি আগ্রহ সবার থাকলেও অনেক সময় এই আগ্রহটা আমাদের জন্য খারাপ একটা ফলাফল নিয়ে আসে। 

আমরা অনেক সময় নিজেরাই একাকিত্ব কাটানোর জন্য গান-বাজনা শুনি এবং বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকি। আসলে এসব কাজ করা মোটেও উচিত নয়। আমাদেরকে অবশ্যই সময় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *