শিশুদের হজম শক্তি বাড়ানোর ৫টি সহজ উপায় জেনে নিন

 

শিশুদের হজম শক্তি বাড়ানোর ৫টি সহজ উপায়

আঁশযুক্ত খাবারগুলো হজমশক্তিতে বেশি সাহায্য করে থাকে। আর আমরা চাইলেই এই ধরনের খাবারের ব্যবস্থা সহজেই করতে পারি। আশা করবো সবাই আমরা এই ধরনের খাবারগুলো সহজেই ব্যবহার করে আামাদের শিশুদের হজম শক্তি বাড়ানোতে সহযোগীতা করবো।

শরীরে শক্তির জন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়মে ও পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা। আমাদের দেশের শিশুদের হজম শক্তি বাড়াতে হলে অবশ্যই সুষম খাবার দিতে হবে তাদেরকে।

শিশুদের হজম শক্তি বাড়ানোর ৫টি সহজ উপায়
বর্তমানে শিশুদের খাবারের কারনে অনেক সময় দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। আমরা আসলে একটু সচেতন হলেই এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। আজকের আর্টিকেলে আমি সেই বিষয়গুলো নিয়েই কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।

 

হজম  শক্তি হলো একটি জটিল বিষয়। আমরা দেখি যে এক এক মানুষের এক এক  রকম পছন্দের খাবার আছে। নানা মানুষ তাদের রুচি অনুযায়ী খাবার খায়। 

 

তাই ভিন্ন মানুষের হজম শক্তি আবার ভিন্ন রকম। এজন্য একই ধরনের খাবার কারো হজম হয় আবার কারো হজম হয় না। 

 

শিশুদের হজম শক্তি বাড়ানোর ৫টি সহজ উপায়

 

 

সেজন্য বলা যায় যে, খাবারের ভিন্নতা অনুযায়ী মানুষে হজম শক্তি ও ভিন্ন হয়।

 

আর বাচ্চারা বা শিশুরা তো একটু সেনসিটিভ বিষয়। প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ খাবার খেতে খেতে একটা সময় তার ধারণা থাকে কি তার সহজে হজম হয় আর কি তার হজম হয় না।

 

কিন্তু শিশুরা তো তাদের Teste অনুযায়ী খাবার খেতে ভালবাসে। তারা স্বাস্থ ভাল থাকে এমন খাবার খেতে কম চায়।

 

বিভিন্ন সময় দোকানের সস্তা খাবার এবং রং মিশ্রিত খাবার দেখে আকৃষ্ট হয় আর খেতে মন চায়।

 

অভিভাবক অনেকটা নিরুপায় হয়ে শিশুদের এ সকল খাবার কিনে দেয়।

আরো পড়ুন >>  হজমশক্তি বাড়ানোর ৫টি উপায় কী কী ?

 

শিশুদের হজম শক্তি বাড়ানোর ৫টি উপায় দেয়া হলো

 

শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং  পুষ্টিবিদ ডাক্তার বলেন, যখন একটি শিশু খাবার খায় তখন তা তার পাকস্থলিতে খাবার যায়।

 

এরপর সে খাবার আরেকটা খাবারের সাথে মিলে শোষণ প্রক্রিয়ার কাজ করে। যদি শোষণ এর কাজ ব্যহত হয় তখনই সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে সাধারণত হজমের কাজ ৩টি ধাপে হয়ে থাকে। 

 

সেগুলো হলো

১. কোন ধরনের খাবার খায়

২. তা কি হজম হবে

৩. এরপর দেহ কি শোষণ করতে পারবে।

এই গুলো দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বিষয়।

 

নিচে শিশুদের হজম শক্তি বাড়ানোর ৫টি উপায় দেয়া হলো

এ মাধ্যম গুলো শিশুদের জন্য খুবই উপকারি হিসাবে কাজ করে থাকে। অভিভাবক একবার ব্যবহার করে উপকার পাবে আশা করি।

 

১. খাবার নির্বাচন

 

শিশুদের খাবার নির্বাচন অতি জরুরী বিষয়। সব খাবার সব শিশুদের জন্য উপযোগী নয়। এক খাবার খেলে যেমন এক জনের সমস্যা হয় আবার অন্য জনের তা হয় না।

 

কিছু শিশু আছে যাদের বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজন বেশি। দেখা যায় তাদের খাবার এর চাহিদা একটু বেশি।

 

বাবা মা আদর করে আরো বেশি খাবার খাওয়ায়। এর ফলে দেখা যায় যে, তার হজম ঠিক মত না হয়ে ফুড পয়োজনিং হয়।

 

তারপর একটা সময় বাবা মা তাদের সন্তান যে মোটা হয়ে যায় সে দিকে খেয়াল রাখেনা।

আরো পড়ুন >>  প্রযুক্তির কারণে মানুষের সৃস্মিশক্তি কেন কমে যায়

 

এরপর আসি, যে শিশুরা বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নেই। তাদের পিতা মাতারা তাদের কে নিয়ে চিন্তিত।

 

তাদের নাকি খাবারের রুচি নেই। তাই তারা খাবার খেতে চায় না। অথচ দেখা যায়, কোন মানুষই খাবার ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না। তাহলে তারা কিভাবে খাবার খায় না।

 

একজন ডাক্তার বলেছেন যে, অরুচিতে ভোগা শিশুদের বাবা মা এক সময় বেশি করে খাবার খাওয়াতে গিয়ে তাদের খাবারে প্রতি অনিহা বাড়িয়েছে।

 

তাছাড়া এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো বাব মা জানেই না যে, তার শিশুরা এ খাবার গুলো সহজে হজম হবে কি।

 

উদারণস্বরূপ – কিছু শিশু আছে যারা বাইরের দুধ জাতীয় খাবার হজম হয় না। তখন বাবা মা জোড় করে তাকে দুধ খাবার খাওয়ান।

 

তারা ভাবে যে, দুধ তো সবচেয়ে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। এটা খেলে ক্যালসিয়াম এর মাধ্যমে তার হাড় গঠন ভালো হবে এবং অন্য সকল পুষ্টি পেতে সহায়ক হবে।

 

কিন্তু এটা সে হজম করতে পারছে না তা আর জানা হলো না। সেজন্য এটা জানা দরকার তার কোন খাবার সহমে সহজ হয়।

 

হজমের শক্তি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়।খাবার নির্বাচনের মাধ্যমে হজম প্রক্রিয়া সহজতর হয়।

 

২. খাবারের সময় নির্বাচন করে খাওয়ান

 

এ যুগে সকাল হয় যেন ১০ টা বা ১১ টা। এক সময় সকালে উঠে দেখতাম নাস্তা তৈরি।

 

এখন খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউ আর নাস্তা তৈরি করতে চান না। যাদের ঘরে শিশু আছে তাদের সাথে তারও আজ অভ্যস্ত। সেজন্য সকালের নাস্তা এখন আর শিশুরা সময় মত খায় না।

 

সকালে দেরি হওয়ার জন্য দুপুরের খাবার খায় ৩ টা বা ৪ টায়। এতে করে শিশুরা সময় মত খাবারের অভ্যাস হারাছে।

 

 

মাঝে মাঝে শিশুরা বিকালে বিভিন্ন রকম চটপটি, ঝালমুরি, শিংগারা, পিয়াজু, সমচা, ফুচকা এবং ফাস্ট ফুড খায়।

 

এর মাধ্যমে তাদের পেটে প্রচুর পরিমানে গ্যাস হয়। তার ফলে তার পেট ফুলে খাকে কিন্তু খাবার হজম হয় না। 

অসময়ে ঐ জাতীয় খাবার শিশুদের নিকট থেকে দুরে রাখলে তাদের জন্য উপকার হবে।

 

তাই সঠিক সময় খাবার খাওয়া একটা নিয়মের মধ্যে এনে নেয়া দরকার। অসময়ে খাবার খাওয়া স্বাস্থের জন্য যেমন ক্ষতি তেমনি হজমের জন্যও ক্ষতি হিসাবে কাজ করে থাকে।

 

৩. সঠিক সময় ঘুমাচ্ছে কিনা তা জানা

 

বেশির ভাগ সময় বাবা মা এখন দেরিতে ঘুমায়। দেখা যায় রাতের খাবার খায় ১০ টার আশেপাশে।

 

কিন্তু ঘুমায় রাত ১ টায় বা ২ দুটায়। আবার সকালে উঠে ১০ টায় বা ১১ টায়। তাই দেখা যায় সব চেয়ে বেশি অনিয়ম হয় রাতে আর সকালে।

 

এ অনিয়মের ফলে খাবারের সঠিক  নিয়ম থাকে না। বর্তমানে যে বাবা সকালে অফিস ও শিশুরা স্কুলে যায় তাদের মধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ সকালের নাস্তা খায় না। এর মাধ্যমে হজমের ব্যাপক ভাবে ব্যহত হচ্ছে।

 

সেজন্য সঠিক সময় খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সঠিক সময় ঘুমান অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। ঘুমানোর আগে কোন ভাবে প্রচুর পরিমানে পানি যেন পান না করে।

আরো পড়ুন >>  পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ৯ টি উপায় জেনে নিন

 

৪. নিয়মিত খেলাধুলা করান

 

সঠিক সময় খাওয়া আর সঠিক সময় ঘুম। এটা সকল শিশুর স্বাস্থের মূল উপাদান। তার সাথে নিয়মিত খেলাধুলা করলে তো কথাই নাই।

 

এক সময় সময় শিশুরা মন খুলে খেলতে পাতো যা এখন আর হয় না। শিশুরা যদি নিয়মিত খেলার সুযোগ পায় তাহলে তাদের শারীরিক ভাবে পরিশ্রম হলে ক্ষুদা লাগে বেশি।

 

তাতে তাদের হজম হবে খুব সহজে। ডাক্তারগণ শিশুদের জন্য দিনে  একটি  নির্দিষ্ট সময় খেলার জন্য অভ্যাস করার জন্য পরামর্শ দেন।

 

এতে করে তার পাকস্থলির কার্যক্রম খুবই  উন্নত হবে। খেলার পর তার পিপাসা আর ক্ষুধা দুটোই বেশি পাবে।

আরো পড়ুন >>  ওষুধ না, হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে ঘরোয়া টোটকা

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ার ও খেলাধূলা আমাদের শরীর যেমন ভালো রাখে তেমনি আমাদের মনেও নিয়ে আসে প্রশান্তি। আমাদের অবশ্যই দৈনন্দিন রুটিনে এই বিষয়গুলো অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

 

৫. জোড় করে খাবার খাওয়ান পরিহার করা

 

কিছু শিশু আছে যারা সাধারণত খাবারের প্রতি একটু বেশি অনিহা প্রকাশ করে। তার জন্য মন ও স্বাস্থ দুটোই ক্ষিট ক্ষিটে হয়ে যায়।

 

এর জন্য বাবা মা উভয়ই একটু বেশি উদ্বগ্ন হয়ে পরেন। তারা চায় সন্তান কে জোড় করে বেশি খাওয়াতে পারলে ও লাভ। কিন্তু তা হয় হিতে বিপরিত।

 

জোড় করে খাওয়ালে শিশুদের মধ্যে হজমের ব্যগাত ঘটতে পারে। তাই জোড় করে না খাইয়ে কোন খাবার জন্য ভাল

 

এবং সে খেতে চায় সেটা ধীরে ধীরে খাওয়ালে তার জন্য সহজে হজম হবে আর তার মধ্যের খাবার খাওয়া অভ্যাস গড়ে উঠবে।

 

আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, হজম করা কোন খাবার একটি সহজ বিষয় না।

 

কারণ হলো শিশুরা বা আমরা যে খাবার খাই না কেন তা হলো আমাদের মন কে খুশি করার জন্য।

 

কিন্তু খাবার আর তো মনের জন্য হজম হবে না। যখন খাবার খাবার পেটে যায় তখন তা হজম হওয়ার জন্য খাবার শোষন হওয়া দরকার।

 

আর সে শোষন হওয়ার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার। 

 

প্রথম প্রকাশ করা হয় = ১৯ ই আগষ্ট ২০২১ সাল

২য় প্রকাশ করা হয় = ১১ ই জানুয়ারী ২০২২ সাল

Source

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *